রাজবাড়ী, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

কলকাঠি নাড়ছে পাড়ার ‘দাদা’!

প্রকাশ: ২০ জুলাই, ২০১৯ ১:২৭ : অপরাহ্ণ

বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যামামলায় তিন নম্বর আসামি মো. রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গতকাল শুক্রবার সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রিশান ফরাজিকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার সকালে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

পরে শুনানি শেষে আদালত রিশান ফরাজির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিশান এ হত্যাকান্ডের মূল হোতা নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এদিকে, রিফাতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সর্বমহলে সমালোচনার ঝড় এখনো থামেনি। ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মুখ থেকে নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে।

রিফাত হত্যামামলায় তার স্ত্রী এক নম্বর সাক্ষী হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য— মিন্নির গ্রেপ্তার ও মামলার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে কলকাঠী নাড়ছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার গুণধর (!) পুত্র।

তাদের ভাষ্য— হাজারো অপরাধের জনকই নয় শুধু, বরগুনা শহরে গ্যাং সংস্কৃতির সৃষ্টিকর্তা এবং মাদকের বিনিময়ে রাজনীতির (মাবিরা) নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার জনক আওয়ামী লীগ নেতার ওই পুত্র।

বাবার ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং সে ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি করার লক্ষ্যে গ্যাং সংস্কৃতির জনক ওই দাদা শহরের কিশোরদের ইয়াবার বিনিময়ে মিছিল মিটিং থেকে শুরু করে মাদক বাণিজ্য ও মোটরবাইক চোরাচালানের কাজ করায়। এসব কার্মকাণ্ড পরিচালনা করতেই তিনি সৃষ্টি করেন গ্যাং।

সম্প্রতি রিফাত শরিফ হত্যাকাণ্ডও তার গ্যাংসংক্রান্ত জটিলতায় এবং মাদকসংশ্লিষ্ট ঝামেলার জেরেই হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

শহরের সকল অপরাধের কলকাঠি নাড়া ওই লোক রিফাত হত্যাকান্ডের ঘটনায়ও দূরে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন বলে জানায় সূত্রটি। এ প্রভাবশালীকে আড়াল করতেই রিফাত হত্যাকান্ডের তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয় অনেকেই।

প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও বিতর্কিত গ্রেপ্তারের শিকার হয়ে দাঁড়িয়েছেন আসামির কাঠগড়ায়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে তুলে এনে দিনশেষে যাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

সেসময় বলা হয়— মিন্নি স্বামী হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু তার এ স্বীকারোক্তি ঘটনার মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনার আগেই কেন আদায় করা হলো এবং কেনই বা এতোটা ত্বরিতগতিতে মিন্নিকে সাক্ষী থেকে আসামিতে রুপান্তর করা হলো সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের সচেতন মহলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যার বাস্তবতা লক্ষ্য করা গেছে। মিন্নিকে আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পুলিশের চাওয়া রিমান্ডের বিরোধিতা করা তো দূরের কথা তার পক্ষে কোনো আইনজীবীই দাঁড়াননি আদালতে। আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এ নিয়ে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেনের অভিযোগ— প্রতিপক্ষের ভয়েই আইনজীবীরা মিন্নির পক্ষে দাঁড়াননি। প্রভাবশালীদের হুমকির মুখেই রয়েছে তার পরিবার। তাদের ভয়ে কেউ মিন্নির পক্ষে মুখ খুলছে না।

মিন্নির পক্ষে আদালতে আইনজীবী না থাকার বিষয়ে তার বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, আমি তিন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাদের দাঁড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু আমার মনে হয় প্রতিপক্ষের ভয়ে তারা আমার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াননি।

মিন্নির বাবা আরও বলেন, আমার মেয়েকে গত বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। আইনজীবীদের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আদালতে আমার মেয়ের পক্ষে তিনজন আইনজীবীর দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু কী কারণে তারা দাঁড়াননি আমি বলতে পারব না।

তবে ধারণা করছি, প্রতিপক্ষের ভয়ে হয়তো কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। কোন প্রতিপক্ষের কারণে আইনজীবী দাঁড়াননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন প্রতিপক্ষ সেটি আপনারাই বুঝে নিন। আমি বলতে গেলে বরগুনা থাকতে পারব না।

এছাড়া খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সে কারণেই হয়তো সব কাগজপত্র প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, বরগুনা শহরে প্রভাবশালী ওই রাজনৈতিক নেতা ও তার পুত্রের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারোই নেই।

এদিকে রিফাত শরিফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর নেপথ্যে মাদকের বিষয়টিই উঠে আসে বারবার। মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই রিফাতকে খুন করা হয়েছে— এমন তথ্য বিভিন্ন সূত্রেও জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, এর আগেও মাদক নিয়ে রিফাত শরিফের সঙ্গে সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই রিফাতকে মাদক দিয়ে নয়ন ফাঁসিয়েছিল। মাদক সম্পৃক্ততার দায়ে রিফাত জেলেও ছিল। পুরো ঘটনা সবার জানা।

তবু জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন অভিযোগপত্র দেওয়ার আগেই সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, রিফাত খুনের সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে তিনি বলেছেন, আসামিদের অনেকেই মাদকসেবী ও কারবারি।

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনার এক আইনজীবী বলেন, যেহেতু এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। মামলাটি তদন্তাধীন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এছাড়া আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তাকে আদালতে হাজির করে বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তি নেবেন। সে ক্ষেত্রে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া বিধিসম্মত নয় বলেই আমি মনে করি।

স্থানীয়রা বলছেন, বরগুনা শহরে কান পাতলেই শোনা যাবে, রিফাত হত্যার আসামিরা মাদক ও মোটরসাইকেল চোরাচালানের সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য।

প্রধান আসামি, যে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে সেই নয়ন বন্ড ১০০ জনের বেশি সদস্য নিয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ ‘০০৭’-এর মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত। নয়নেরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন রিফাত শরিফ।

নয়নের গ্রুপ থেকে বের হয়ে এসে অন্য গ্রুপে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এর কয়েক মাস পর গত ২৬ জুন বন্ড গ্রুপের সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাতকে।

রিফাত হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরিফের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নয়ন গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পরপরই ‘জন’ নামে অন্য একটি ‘গ্যাং স্টার’ তার সেই নেটওয়ার্কের কর্তৃত্ব নেয়।

নয়নের মা শাহিদা বেগম সাংবাদিকদের বলেছেন, তার ছেলে বরগুনা কলেজে পড়ে। কিন্তু শিক্ষকদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রচার করেছে যে সে বহিরাগত।

শাহিদা বেগম আরও বলেন, গত বছর বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় নয়ন ‘দাদা’র সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কে সেই ‘দাদা’ তা শাহিদা বেগম পরিষ্কার করে বলেননি।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই নির্বাচনের সময় যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় ‘দাদা’র সঙ্গে (ওই রাজনৈতিক নেতার পুত্র) নয়নের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

‘দাদা’র গ্রুপ ছাড়ার ব্যাপারে নয়নের সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নিতে পারেননি নিহত রিফাত শরিফ। রিফাত ‘দাদা’ সমর্থিত ‘জনে’র সঙ্গেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ কারণে দুই বন্ধু পরিণত হয় শত্রুতে।

গত ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল বরগুনায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান বলেন, সুনামের (‘দাদা’ বলে পরিচিত) আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদে নয়ন মাদক চোরাকারবার ও মোটরসাইকেল চোরাচালানে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল।

মাদক চোরাকারবার, চোরাচালান ও আরও ক্ষমতা লাভের আশায় সুনাম সেই গ্যাং গঠন করেন। এর আগেও সংবাদ সম্মেলনে করে সুনামের বিরুদ্ধে মাদকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

সুনাম অভিযোগ অস্বীকার করে ওইসময় বলেছিলেন, তার বাবা যাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পান সে জন্য আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তার বাবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই তার বিরুদ্ধে মাদকের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিল ওই পক্ষ।

রিফাত হত্যাকান্ডের পেছনে মাদকের বিষয়টি জড়িত দাবি করে গত ১৪ জুলাই বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে ‘দাদা’ অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি মাদক নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। এর আগের দিন শনিবার রিফাতের বাবা দুলাল শরিফ সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নির গ্রেপ্তার দাবি করেন।

এর পরদিন একই দাবিতে ‘বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ’ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এর পরই রিফাত হত্যামামলার তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে মিন্নিকে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বরগুনার স্থানীয়দের হাজারো অভিযোগের তীর ওই দাদার বিরুদ্ধে থাকলেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন ‘দাদা’ নামে পরিচিত প্রভাবশালী রাজনীতিকপুত্র। তবে তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আদালতে রিফাত হত্যার স্বীকারোক্তি দিলেন মিন্নি
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। পাঁচদিনের রিমান্ডের দু’দিন শেষে মিন্নিকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

পরে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিন্নি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আজ মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ।

এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পুলিশের কৌশলী এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আটকে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ

এরপর বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

পরদিন বৃহস্পতিবার বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার রিমান্ড মঞ্জুরের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। ইতোমধ্যে মিন্নি স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মিন্নিসহ ১৩ জন অভিযুক্ত রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া এ মামলার দুজন অভিযুক্ত রিমান্ডে রয়েছেন। আর এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আমার-সংবাদ

Facebook Comments