রাজবাড়ী, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

পিআইও’র যোগসাজসে নগরকান্দায় কর্মসৃজন প্রকল্পে কাজ না করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে টাকা

প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০১৯ ১:৩৩ : পূর্বাহ্ণ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)’র যোগসাজসে কর্মপরিকল্পনায় কাজ না করে ভুয়া নামের তালিকার মাধ্যমে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে কম শ্রমিক ও প্রকল্পের কাজে অনিয়ম পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদরুদ্দোজা শুভ।
অফিস সূত্রে জানা যায়,২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২য় পর্যায়ে ৪০ দিনের এ কর্মসুচিতে কাইচাইল ইউনিয়নে ১২০ জন শ্রমিকের কাজ করার জন্য ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ২৭ মে হতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ৩০শে জুন শেষ হয়। ১২০ জন শ্রমিকের ৪০ কর্মদিবস কাজ করার কথা থাকলেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চুক্তি ভিত্তিক স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে নাম মাত্র কাজ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা। কাইচাইল ইউনিয়নে ১টি মাত্র প্রকল্পে ৪ নং ওয়ার্ডের মধ্য কাইচাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে মধ্য কাইচাইল ঈদগাহ পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মানে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ১৫ জন চুক্তভিত্তিক শ্রমিক কাজ করেছে। অতিদরিদ্রদের তালিকায় ব্যবহার করা হয়েছে স্বচ্ছলব্যাক্তি ও চেয়ারম্যানের কাছের লোকজনদের নাম। তালিকায় এমনও ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা নিজেরাই জানেন না তাদের নাম তালিকায় রয়েছে। অথচ তাদের নামের বিপরীতে টাকা তুলে আত্মসাত করা হয়েছে। আর এতে সার্বিক সহযোগীতা করেছেন নগরকান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল কবির। যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে শ্রমিক কম থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ঠান্ডু ও কতিপয় ইউপি সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এভাবেই ভুয়া নামের তালিকা তৈরী করে প্রকল্পের ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার সিংহভাগ ভোগ করেছেন। এমনকি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট স্থানে সাইনবোর্ড টাঙানোর নিয়ম থাকলেও কোথাও কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায় নি।
ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ঠান্ডু জানান, প্রকল্পের কাজ ঠিকমতোই হয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন তারা ঠিক করেননি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্তর অভিযোগ। চেয়ারম্যানদের যোগসাজসে ভুয়া তালিকা করে বেশীর ভাগ অর্থই হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল কবির এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজী হননি।
উল্লেখ্য, ১ম পর্যায়ের প্রকল্প কাজেও জিয়াকুলি বিশ^রোড হইতে কুমারুদীর খালপাড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মানে ১২০ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্প কাজে শ্রমিকের কাজ করার কথা থাক

Facebook Comments